চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মাছের পোনা পরিবহন

    লেখার আকার:
    কৃষিশিক্ষা - দ্বিতীয় অধ্যায়: চতুর্থ পরিচ্ছেদ (মাছের পোনা পরিবহন)
    📚 কৃষিশিক্ষা - অধ্যায় ২: পরিচ্ছেদ ৪
    দাখিল - নবম ও দশম শ্রেণি

    কৃষিশিক্ষা

    দ্বিতীয় অধ্যায়: কৃষি উপকরণ

    চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মাছের পোনা পরিবহন

    মাছের পোনা পরিবহন

    পোনা পরিবহন কী?

    হ্যাচারি বা নার্সারি পুকুর থেকে রেণু পোনা বা ধানী পোনা সংগ্রহ করে চাষের পুকুর পর্যন্ত সুস্থ ও সবলভাবে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেই মাছের পোনা পরিবহন বলে।

    পোনা পরিবহনের সময় সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি হয়, তা হলো অক্সিজেনের অভাব। তাই পোনা পরিবহনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

    পোনা পরিবহনের পদ্ধতি

    পোনা প্রধানত ২টি পদ্ধতিতে পরিবহন করা হয়:

    • ১. উন্মুক্ত পদ্ধতি (Open System)
    • ২. বদ্ধ পদ্ধতি (Closed System)

    ১. উন্মুক্ত পদ্ধতি (Open System)

    এই পদ্ধতিতে সাধারণত অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র, ড্রাম বা মাটির হাঁড়িতে করে পোনা পরিবহন করা হয়।

    • ব্যবহার: এটি মূলত কাছাকাছি দূরত্বে (অল্প সময়ে) পোনা পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • পদ্ধতি: পাত্রের অর্ধেক পানি দিয়ে ভরে তাতে পোনা ছাড়া হয়।
    • সতর্কতা: পরিবহনের সময় মাঝে মাঝে হাত দিয়ে বা কাঠি দিয়ে পানি নেড়ে দিতে হয়, যেন বাইরের বাতাস থেকে অক্সিজেন পানিতে মিশতে পারে।
    উন্মুক্ত পদ্ধতিতে পোনা পরিবহন

    ২. বদ্ধ পদ্ধতি (Closed System)

    এটি পোনা পরিবহনের সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে পলিথিন ব্যাগের ভেতরে পোনা পরিবহন করা হয়।

    • ব্যবহার: দূরের রাস্তায় বা দীর্ঘ সময় ধরে পোনা পরিবহনের জন্য এটি সবচেয়ে নিরাপদ।
    • পদ্ধতি: একটি বড় পলিথিন ব্যাগের ১/৩ অংশ (এক-তৃতীয়াংশ) পানি দিয়ে পূর্ণ করা হয়। এরপর পোনা ছেড়ে ব্যাগের বাকি ২/৩ অংশ (দুই-তৃতীয়াংশ) অক্সিজেন গ্যাস দিয়ে ভর্তি করে মুখ শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়।
    বদ্ধ বা পলিথিন পদ্ধতিতে পোনা পরিবহন

    পোনা পরিবহনে সতর্কতা

    পোনা যেন মারা না যায় বা দুর্বল না হয়, সেজন্য নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলতে হবে:

    • সময় নির্বাচন: দিনের ঠান্ডা সময়ে, অর্থাৎ খুব সকালে বা বিকেলে/সন্ধ্যায় পোনা পরিবহন করা উচিত। প্রখর রোদে পরিবহন করা যাবে না।
    • খাবার বন্ধ রাখা: পরিবহনের আগে পোনাকে কোনো খাবার দেওয়া যাবে না। কারণ খাবার খেলে পোনা বেশি মলমূত্র ত্যাগ করবে, এতে ব্যাগের পানি দূষিত হয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হবে এবং পোনা মারা যাবে।
    • পানির তাপমাত্রা: ব্যাগের পানি যেন গরম হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দরকারে ব্যাগের বাইরে ভেজা চট পেঁচিয়ে রাখা যায়।

    পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ (খাপ খাওয়ানো)

    পরিবহন করে আনার পর সরাসরি পোনা পুকুরে ঢেলে দেওয়া যাবে না। এতে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনে পোনা শকে (Shock) মারা যেতে পারে।

    খাপ খাওয়ানো বা কন্ডিশনিং (Conditioning):

    1. পোনাভর্তি পলিথিন ব্যাগটি পুকুরের পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভাসিয়ে রাখতে হবে। এতে ব্যাগের ভেতরের ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা সমান হবে।
    2. এরপর ব্যাগের মুখ খুলে অল্প অল্প করে পুকুরের পানি ব্যাগে ঢোকাতে হবে এবং ব্যাগের পানি পুকুরে ফেলতে হবে।
    3. যখন পোনাগুলো পুকুরের পানির সাথে পুরোপুরি খাপ খেয়ে যাবে, তখন আস্তে আস্তে ব্যাগ কাত করে পোনাগুলোকে পুকুরে চলে যেতে দিতে হবে।

    মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

    সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন

    ১. প্রশ্ন এখানে আসবে

    ধন্যবাদ

    অধ্যায় ২: পরিচ্ছেদ ৪ এর সমাপ্তি

    পোনা পরিবহনের এই আধুনিক পদ্ধতিগুলো জানলে মাছ চাষে ক্ষতির ঝুঁকি অনেক কমে যায়।



    ১ / ৮
    কিবোর্ড ⬅️ ➡️