তৃতীয় পরিচ্ছেদ (অভিযোজন কলাকৌশল)

    লেখার আকার:
    কৃষিশিক্ষা - তৃতীয় অধ্যায়: তৃতীয় পরিচ্ছেদ (অভিযোজন কলাকৌশল)
    📚 কৃষিশিক্ষা - অধ্যায় ৩: পরিচ্ছেদ ৩
    দাখিল - নবম ও দশম শ্রেণি

    কৃষিশিক্ষা

    তৃতীয় অধ্যায়: কৃষি ও জলবায়ু

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অভিযোজন কলাকৌশল

    অভিযোজন কলাকৌশল

    অভিযোজন (Adaptation) কী?

    জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফসলকে রক্ষা করতে বা খাপ খাইয়ে নিতে কৃষিব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন বা কৌশল অবলম্বন করা হয়, তাকে অভিযোজন বা খাপ খাইয়ে নেওয়া বলে।

    অভিযোজনের মূল উদ্দেশ্য:

    • ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে না দেওয়া।
    • প্রতিকূল পরিবেশেও মাটির আর্দ্রতা ও উর্বরতা ধরে রাখা।
    • কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনা।

    "প্রকৃতিকে হয়তো বদলানো যাবে না, কিন্তু প্রকৃতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার কৌশলই হলো অভিযোজন।"

    খরার ক্ষেত্রে অভিযোজন কৌশল

    খরা বা বৃষ্টির অভাবে মাটির রস শুকিয়ে গেলে ফসল বাঁচাতে নিচের কৌশলগুলো ব্যবহার করা যায়:

    • মালচিং (Mulching): জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে ফসলের গোড়ায় খড়, কচুরিপানা বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়াকে মালচিং বলে। এতে মাটি সহজে শুকায় না।
    • বিনা চাষে আবাদ (Zero Tillage): জমি চাষ না করেই (যেমন- বিনা চাষে রসুন) বীজ বপন করা। এতে মাটির নিচের রস সংরক্ষিত থাকে।
    • খরা সহনশীল জাত: যেসব ফসল কম পানিতে বাঁচে (যেমন- গম, ডাল) বা খরা সহনশীল ধানের জাত (ব্রি ধান৫৬) আবাদ করা।
    • বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: গর্ত বা পুকুর করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা।

    লবণাক্ততার ক্ষেত্রে অভিযোজন কৌশল

    উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মোকাবিলার জন্য বিশেষ কৌশল প্রয়োজন:

    • সরজন (Sorjan) পদ্ধতি: উঁচু বেড বা কান্দি তৈরি করে সেখানে ফসল বোনা। এতে লবণাক্ত পানি ফসলের গোড়ায় পৌঁছাতে পারে না।
    • মিষ্টি পানির সেচ: পুকুরে বৃষ্টির মিষ্টি পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহার করা।
    • লবণাক্ততা সহনশীল জাত: লবণ সহ্য করতে পারে এমন ফসল বা জাত (যেমন- ব্রি ধান৪৭) চাষ করা।
    সরজন পদ্ধতি

    বন্যা ও জলমগ্নতায় অভিযোজন

    বন্যা বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধ এলাকায় টিকে থাকার জন্য যে কৌশলগুলো ব্যবহৃত হয়:

    • ভাসমান কৃষিকাজ: কচুরিপানা দিয়ে পানির ওপর ভাসমান বেড (ধাপ/বাউকা) তৈরি করে সবজি বা চারা উৎপাদন।
    • নাবী জাতের চাষ: বন্যার পানি নামতে দেরি হলে দেরিতে রোপণ করা যায় এমন ধানের জাত (নাবী জাত যেমন- বিআর ২২, বিআর ২৩) চাষ করা।
    • আগাম জাতের চাষ: বন্যার পানি আসার আগেই যেন ফসল ঘরে তোলা যায়, সেজন্য দ্রুত পচনশীল বা আগাম জাত চাষ করা।
    • দাপোগ বীজতলা: কাদামাটির বদলে কলাপাতার ওপর মাটিহীন বীজতলা তৈরি করা, যা সহজে স্থানান্তর করা যায়।

    সাথি ফসল ও অন্যান্য কৌশল

    ঝুঁকি কমানোর জন্য কৃষকরা আরও কিছু কৌশল অবলম্বন করেন:

    • মিশ্র বা সাথি ফসল (Mixed Cropping): একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল আবাদ করা। এতে একটি ফসল নষ্ট হলেও অন্যটি থেকে লাভ পাওয়া যায়।
    • রিলে ক্রপিং (Relay Cropping): একটি ফসল কাটার আগেই ঐ জমিতে পরের ফসলের বীজ বুনে দেওয়া। এতে সময় বাঁচে এবং মাটির রস কাজে লাগানো যায়।
    • রোপণের সময় পরিবর্তন: আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বীজ বোনার সময় কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া।
    সাথি ফসল

    মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

    সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন

    ১. প্রশ্ন এখানে আসবে

    ধন্যবাদ

    অধ্যায় ৩: পরিচ্ছেদ ৩ এর সমাপ্তি

    জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এই কলাকৌশলগুলো জানা কৃষকদের জন্য অপরিহার্য।



    ১ / ৮
    কিবোর্ড ⬅️ ➡️