দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জলবায়ু পরিবর্তনে মৎস্য ও পশুপাখির ওপর প্রভাব

    লেখার আকার:
    কৃষিশিক্ষা - তৃতীয় অধ্যায়: দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (মৎস্য ও পশুপাখির ওপর জলবায়ুর প্রভাব)
    📚 কৃষিশিক্ষা - অধ্যায় ৩: পরিচ্ছেদ ২
    দাখিল - নবম ও দশম শ্রেণি

    কৃষিশিক্ষা

    তৃতীয় অধ্যায়: কৃষি ও জলবায়ু

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জলবায়ু পরিবর্তনে মৎস্য ও পশুপাখির ওপর প্রভাব

    জলবায়ুর প্রভাব

    মৎস্যখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

    জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিখাতের মধ্যে মৎস্যখাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

    প্রধান সমস্যাসমূহ:

    • দীর্ঘস্থায়ী খরায় পুকুর শুকিয়ে যায়।
    • উচ্চ তাপমাত্রায় মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
    • অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পুকুরের মাছ ভেসে যায়।
    • উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাসের ফলে মিষ্টি পানির পুকুরে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে।
    খরায় পুকুর

    তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব ও উত্তরণের উপায়

    তাপমাত্রা বাড়লে কী হয়?

    • পানির তাপমাত্রা বাড়লে পানিতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়।
    • মাছের খাদ্যগ্রহণ কমে যায় এবং রোগবালাই বাড়ে।
    উত্তরণের উপায়: পুকুরে পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে। পুকুরের পাড়ে গাছ লাগিয়ে বা পানিতে কচুরিপানা/ডালপালা দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
    পুকুরে ছায়ার ব্যবস্থা

    অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাব

    বন্যার কারণে চাষের পুকুর তলিয়ে গিয়ে খামারিদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়।

    উত্তরণের উপায়:

    • পুকুরের পাড় মাটি দিয়ে যথেষ্ট উঁচু করে বাঁধতে হবে।
    • বন্যা বা বৃষ্টির আগে পুকুরের চারদিকে নাইলনের জাল (Net) দিয়ে ঘেরা দিতে হবে, যেন মাছ বের হতে না পারে।
    • বন্যার পর পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানি বিশুদ্ধ করতে হবে।
    পুকুরে জালের বেড়া

    গবাদিপশু ও পাখির ওপর প্রভাব

    তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বন্যার কারণে গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামার মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

    অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব:

    • অতিরিক্ত গরমে পোল্ট্রি খামারে মুরগি হিট স্ট্রোকে (Heat Stroke) মারা যায়।
    • গবাদিপশুর (গরু-ছাগল) খাদ্যগ্রহণ কমে যায়, যার ফলে দুধ ও মাংস উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
    • গরমে গবাদিপশুর প্রজনন ক্ষমতাও কমে যায়।

    অতিরিক্ত গরমে উত্তরণের উপায়

    পশুপাখিকে অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচাতে নিচের ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে:

    • ভেন্টিলেশন: খামারে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে ফ্যান লাগাতে হবে।
    • ছাদ ঠান্ডা রাখা: টিনের চালে ভেজা চট বিছিয়ে দেওয়া বা চালের ওপর দিয়ে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
    • পানি ও স্যালাইন: অতিরিক্ত গরমে পশুপাখিকে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ ও ঠান্ডা পানি খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনে পানিতে ভিটামিন সি বা স্যালাইন মিশিয়ে দিতে হবে।

    বন্যার সময় গবাদিপশুর ব্যবস্থাপনা

    বন্যার সময় গবাদিপশুর জন্য প্রধান দুটি সমস্যা হলো— বাসস্থান সংকট এবং খাদ্য সংকট

    • বন্যার পানি আসার আগেই গবাদিপশুকে উঁচু স্থানে বা উঁচু প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করতে হবে।
    • মাঠের কাঁচা ঘাস পানিতে তলিয়ে যায় বলে খাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দেয়। তাই আগে থেকেই সাইলেজ বা হে (Hay) তৈরি করে সংরক্ষণ করতে হবে।
    • বন্যার পর পানিবাহিত রোগ থেকে বাঁচাতে পশুকে দ্রুত টিকা (Vaccine) দিতে হবে।
    বন্যার সময় গবাদিপশু

    মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

    সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন

    ১. প্রশ্ন এখানে আসবে

    ধন্যবাদ

    অধ্যায় ৩: পরিচ্ছেদ ২ এর সমাপ্তি

    প্রতিকূল পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা জানলে খামারের আর্থিক ক্ষতি কমানো সম্ভব।



    ১ / ৯
    কিবোর্ড ⬅️ ➡️