প্রথম পরিচ্ছেদ: ফসল চাষ

    লেখার আকার:
    কৃষিশিক্ষা - চতুর্থ অধ্যায়: প্রথম পরিচ্ছেদ (ফসল চাষ)
    📚 কৃষিশিক্ষা - অধ্যায় ৪: পরিচ্ছেদ ১
    দাখিল - নবম ও দশম শ্রেণি

    কৃষিশিক্ষা

    চতুর্থ অধ্যায়: কৃষিজ উৎপাদন

    প্রথম পরিচ্ছেদ: ফসল চাষ

    ফসল চাষ

    ধান চাষ (Rice Cultivation)

    বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য হলো ধান। আউশ, আমন ও বোরো- এই ৩টি মৌসুমেই আমাদের দেশে ধানের চাষ হয়ে থাকে।

    ধানের জাত:

    • স্থানীয় জাত (টেপি, গিরি, লতিশাইল)
    • স্থানীয় উন্নত জাত (নাইজারশাইল, লতিশাইল)
    • উফশী (উচ্চ ফলনশীল) জাত: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও বিনা (BINA) অনেক উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে।
    ধানের জমি

    উফশী (HYV) ধানের বৈশিষ্ট্য

    উচ্চ ফলনশীল বা উফশী জাতের ধানগুলো সনাতন ধানের চেয়ে আলাদা ও উন্নত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

    • গাছ মজবুত ও খাটো হয়, ফলে বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না।
    • পাতা খাড়া থাকে, তাই প্রচুর সূর্যালোক পায়।
    • সার গ্রহণ করার ক্ষমতা বেশি এবং ফলনও অনেক বেশি হয়।
    • রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি থাকে।

    ধান চাষের ধাপসমূহ

    ধান চাষ করার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপ পার হতে হয়:

    • ১. বীজতলা তৈরি: চার ধরনের বীজতলা তৈরি করা যায়: শুকনা বীজতলা, ভেজা বীজতলা, ভাসমান বীজতলা এবং দাপোগ বীজতলা।
    • ২. জমি তৈরি: ধানের জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে কাদা-কাদা করে নিতে হয়। এরপর মই দিয়ে জমি সমান করতে হয়।
    • ৩. চারা রোপণ: বীজতলা থেকে চারা তুলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে (লাইনে) রোপণ করতে হয়।

    সার ব্যবস্থাপনা

    ভালো ফলনের জন্য জমিতে সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে:

    • টিএসপি ও এমওপি: জমি তৈরির শেষ চাষের সময় এগুলো মাটিতে মিশিয়ে দিতে হয়।
    • ইউরিয়া: ইউরিয়া সার একেবারে না দিয়ে ৩টি কিস্তিতে (ভাগে) ছিটিয়ে দেওয়া ভালো।
    • এলসিসি (LCC): পাতার রঙ দেখে ইউরিয়া সার দেওয়ার জন্য 'লিফ কালার চার্ট' (LCC) বা গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করা সবচেয়ে লাভজনক।
    সার প্রয়োগ

    ধানের পোকা ও রোগবালাই

    প্রধান ক্ষতিকর পোকা:

    • মাজরা পোকা: গাছের ডগা ও শীষ কেটে দেয়।
    • পামরি পোকা: পাতার সবুজ অংশ খেয়ে সাদা করে ফেলে।
    • বাদামি গাছ ফড়িং: রস চুষে গাছ শুকিয়ে মারে (হপার বার্ন)।

    প্রধান রোগ:

    • ব্লাস্ট রোগ: এটি একটি ছত্রাকজনিত মারাত্মক রোগ।
    • পাতা পোড়া রোগ: এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ।
    ধানের পোকা

    পাট চাষ (Jute Cultivation)

    পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশে প্রধানত দুই প্রজাতির পাটের চাষ হয়: দেশি পাটতোষা পাট

    • মাটি: ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও যমুনার পলিযুক্ত গভীর দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।
    • বপনের সময়: তোষা পাট মধ্য ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত (মার্চ-এপ্রিল) বপন করা হয়।
    • রোগবালাই: পাটের প্রধান ক্ষতিকর পোকা হলো বিছা পোকা ও ঘোড়া পোকা।

    পাট কাটা ও পচানো (Retting)

    গাছে ফুল আসলেই পাট কাটার উপযুক্ত সময়।

    পাট পচানো:

    • পাট কেটে আঁটি বেঁধে পরিষ্কার ও ধীর গতির প্রবহমান পানিতে ডুবিয়ে পচাতে হয়।
    • পচানো সঠিক না হলে পাটের আঁশের মান ও রং নষ্ট হয়ে যায়।
    • পানির অভাব থাকলে আধুনিক রিবন রেটিং (Ribbon Retting) বা ছাল ছাড়িয়ে পচানো পদ্ধতিতে অল্প পানিতে পাট পচানো সম্ভব।
    পাট পচানো

    মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

    সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন

    ১. প্রশ্ন এখানে আসবে

    ধন্যবাদ

    অধ্যায় ৪: পরিচ্ছেদ ১ এর সমাপ্তি

    উন্নত জাত ও সঠিক ব্যবস্থাপনা ফসল উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।



    ১ / ১০
    কিবোর্ড ⬅️ ➡️