প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ুতে ফসল উৎপাদন

    লেখার আকার:
    কৃষিশিক্ষা - তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পরিচ্ছেদ (প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসল)
    📚 কৃষিশিক্ষা - অধ্যায় ৩: পরিচ্ছেদ ১
    দাখিল - নবম ও দশম শ্রেণি

    কৃষিশিক্ষা

    তৃতীয় অধ্যায়: কৃষি ও জলবায়ু

    প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ুতে ফসল উৎপাদন

    কৃষি ও জলবায়ু

    প্রতিকূল আবহাওয়া কী?

    ফসল উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও সূর্যালোক প্রয়োজন। কিন্তু মাঝে মাঝে আবহাওয়ার চরম রূপ দেখা দেয়, যা ফসলের জন্য ক্ষতিকর।

    প্রতিকূল আবহাওয়ার উদাহরণ:

    • দীর্ঘস্থায়ী খরা (Drought)
    • লবণাক্ততা (Salinity)
    • বন্যা ও জলমগ্নতা (Flood)
    • উচ্চ তাপমাত্রা ও শৈত্যপ্রবাহ

    তবে আমাদের বিজ্ঞানীরা এমন কিছু ফসলের জাত আবিষ্কার করেছেন, যেগুলো এই প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।

    প্রতিকূল আবহাওয়া

    খরা (Drought) ও খরা সহনশীল জাত

    দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং মাটিতে পানির অভাব দেখা দেওয়াকে খরা বলে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার প্রকোপ বেশি।

    খরা সহনশীল ধানের জাত:

    • ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭
    • ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১
    • বিনা ধান১৯
    নোট: এই জাতগুলো সাধারণত আমন মৌসুমে চাষ করা হয় এবং এগুলো খরার মধ্যেও ভালো ফলন দিতে পারে।
    খরা সহনশীল ফসল

    লবণাক্ততা ও লবণাক্ততা সহনশীল জাত

    বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানির কারণে মাটিতে লবণাক্ততার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়, ফলে সাধারণ ফসল জন্মাতে পারে না।

    লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত:

    • বোরো মৌসুম: ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৫৫, ব্রি ধান৬১, ব্রি ধান৬৭, বিনা ধান৮, বিনা ধান১০।
    • আমন মৌসুম: ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৭৩।
    লবণাক্ত এলাকায় ফসল

    বন্যা ও জলমগ্নতা সহনশীল জাত

    অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা সৃষ্টি হয়। সাধারণ ধান গাছ কয়েক দিন পানির নিচে তলিয়ে থাকলে পচে মারা যায়।

    জলমগ্নতা সহনশীল জাত:

    বিজ্ঞানীরা এমন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যেগুলো পানির নিচে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ তলিয়ে থাকলেও মরে যায় না। পানি নেমে গেলে এগুলো আবার সতেজ হয়ে ওঠে।

    • উদাহরণ: ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২, বিনা ধান১১ এবং বিনা ধান১২।

    অন্যান্য কৌশল (ভাসমান বেড ও সরজন)

    দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধ ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় ফসল চাষের কিছু বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে:

    • ভাসমান কৃষিকাজ: কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদ স্তরে স্তরে সাজিয়ে পানির ওপর ভাসমান বেড তৈরি করা হয়। এর ওপর মাটি ও সার দিয়ে সবজি বা বীজতলা তৈরি করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলে এটিকে 'ধাপ' বা 'বাউকা' বলা হয়।
    • সরজন (Sorjan) পদ্ধতি: জলাবদ্ধ জমিতে মাটি কেটে উঁচু 'কান্দি' (বেড) এবং গভীর 'নালা' তৈরি করা হয়। কান্দিতে সবজি বা ফলের গাছ এবং নালায় মাছ চাষ করা হয়।
    ভাসমান কৃষিকাজ

    মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

    সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন

    ১. প্রশ্ন এখানে আসবে

    ধন্যবাদ

    অধ্যায় ৩: পরিচ্ছেদ ১ এর সমাপ্তি

    জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই জাত ও পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



    ১ / ৮
    কিবোর্ড ⬅️ ➡️