চতুর্থ পরিচ্ছেদ (মৎস্যখাতে জলবায়ুর প্রভাব)
কৃষিশিক্ষা
তৃতীয় অধ্যায়: কৃষি ও জলবায়ু
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মৎস্য ক্ষেত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
মৎস্যখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের কৃষিখাতের অন্যান্য অংশের মতো মৎস্যখাতও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
মৎস্যখাতে প্রধানত ৪টি কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে:
- ১. দীর্ঘস্থায়ী খরা বা অনাবৃষ্টি
- ২. তাপমাত্রার বৃদ্ধি
- ৩. অতিবৃষ্টি ও বন্যা
- ৪. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা
"মাছ জলজ প্রাণী হওয়ায় পানির গুণগত মান ও তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনও তাদের জীবনচক্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।"
খরার প্রভাব (Impact of Drought)
খরার কারণে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং প্রচণ্ড রোদে পুকুর ও জলাশয়ের পানি শুকিয়ে যায়।
- পানির গভীরতা হ্রাস: পানি কমে যাওয়ার ফলে মাছ পর্যাপ্ত সাঁতার কাটার জায়গা পায় না, এতে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
- পানি দূষণ: পানির স্তর নিচে নেমে গেলে পানিতে অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের মাত্রা বেড়ে যায় এবং পানি দ্রুত দূষিত হয়।
- রোগবালাই বৃদ্ধি: দূষিত পানিতে মাছের শরীরে নানা ধরনের পরজীবী ও রোগের আক্রমণ বেড়ে যায় এবং অনেক মাছ মারা যায়।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব
পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে মাছের শারীরিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়:
- অক্সিজেন সংকট: পানির তাপমাত্রা বাড়লে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (Dissolved Oxygen) পরিমাণ কমে যায়। ফলে মাছ শ্বাসকষ্টে ভোগে।
- খাদ্যগ্রহণে অনীহা: অতিরিক্ত গরমে মাছ খাবার খাওয়া কমিয়ে দেয়, ফলে দৈহিক বৃদ্ধি থেমে যায়।
- প্রজনন ব্যাহত: তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে মাছের স্বাভাবিক ডিম পাড়া বা প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাব
অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা সৃষ্টি হলে পুকুরের মাছ চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন।
- মাছ ভেসে যাওয়া: পুকুরের পাড় তলিয়ে চাষের মাছ পানিতে ভেসে যায়।
- রাক্ষুসে মাছের প্রবেশ: বন্যার পানির সাথে শোল, বোয়াল, টাকি ইত্যাদি রাক্ষুসে মাছ পুকুরে ঢুকে পড়ে এবং চাষের পোনা খেয়ে ফেলে।
- পানির গুণাগুণ নষ্ট: বন্যার ঘোলা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পুকুরে প্রবেশ করে পানির পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়, যা মাছের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
লবণাক্ততার প্রভাব (Impact of Salinity)
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকার নদী ও পুকুরে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে।
- মিঠা পানির মাছ (যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল) লবণাক্ত পানিতে বাঁচতে পারে না। ফলে মিঠা পানির মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
- লবণাক্ততার কারণে জলজ উদ্ভিদ ও প্লাংকটন (মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য) মারা যায়।
- লবণাক্ত এলাকায় জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন ঘটে এবং অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন
ধন্যবাদ
অধ্যায় ৩: পরিচ্ছেদ ৪ এর সমাপ্তি
পরবর্তী পরিচ্ছেদে আমরা এই সমস্যাগুলো থেকে মৎস্যখাতকে বাঁচানোর অভিযোজন কৌশলগুলো সম্পর্কে জানবো।