সপ্তম পরিচ্ছেদ: গৃহপালিত পাখির (হাঁস-মুরগির) খাদ্য
লেখার আকার:
📚 কৃষিশিক্ষা - অধ্যায় ২: পরিচ্ছেদ ৭
দাখিল - নবম ও দশম শ্রেণি
কৃষিশিক্ষা
দ্বিতীয় অধ্যায়: কৃষি উপকরণ
সপ্তম পরিচ্ছেদ: গৃহপালিত পাখির (হাঁস-মুরগির) খাদ্য
হাঁস-মুরগির খাদ্য কী?
হাঁস-মুরগি তাদের জীবনধারণ, দৈহিক বৃদ্ধি এবং ডিম ও মাংস উৎপাদনের জন্য যা খায়, তাকেই হাঁস-মুরগির খাদ্য বা রেশন (Ration) বলে।
একটি পোল্ট্রি খামারকে লাভজনক করতে হলে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: একটি খামারের মোট খরচের প্রায় ৬৫-৭০% খরচ হয় কেবল খাদ্যের পেছনেই!
খাদ্যের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান
হাঁস-মুরগির সুষম খাদ্যে প্রধানত ৬টি পুষ্টি উপাদান থাকতে হয়:
- শর্করা: শক্তি জোগায়। (উৎস: ভুট্টা ভাঙা, গম, চালের খুদ, গমের ভুসি)
- আমিষ বা প্রোটিন: শরীর গঠন করে। (উৎস: শুঁটকি মাছের গুঁড়া, সয়াবিন মিল, তিলের খৈল)
- স্নেহ বা চর্বি: তাপ উৎপন্ন করে। (উৎস: সয়াবিন তেল, সরিষার তেল)
- খনিজ লবণ: হাড় ও ডিমের খোসা গঠন করে। (উৎস: হাড়ের গুঁড়া, ঝিনুকের গুঁড়া, লবণ)
- ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ করে। (উৎস: সবুজ শাকসবজি, ভিটামিন প্রিমিক্স)
- পানি: খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
বয়স অনুযায়ী ব্রয়লার মুরগির খাদ্য
মাংস উৎপাদনকারী মুরগিকে ব্রয়লার বলে। বয়স অনুযায়ী এদের রেশন ৩ প্রকার:
- ১. ব্রয়লার স্টার্টার রেশন (Starter Ration): বাচ্চা ফোটার পর থেকে ২ সপ্তাহ (০-১৪ দিন) বয়স পর্যন্ত এই খাবার দেওয়া হয়। এতে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে।
- ২. ব্রয়লার গ্রোয়ার রেশন (Grower Ration): ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ (১৫-২৮ দিন) বয়সে এই খাবার দেওয়া হয়। এটি দৈহিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- ৩. ব্রয়লার ফিনিশার রেশন (Finisher Ration): ৫ সপ্তাহ থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রির আগ পর্যন্ত এই খাবার দেওয়া হয়। এতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, যা মুরগিকে দ্রুত মোটাতাজা করে।
বয়স অনুযায়ী লেয়ার মুরগির খাদ্য
ডিম উৎপাদনকারী মুরগিকে লেয়ার বলে। এদের রেশনও ৩ প্রকার:
- ১. লেয়ার স্টার্টার রেশন: ০ থেকে ৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত দেওয়া হয়।
- ২. লেয়ার গ্রোয়ার রেশন: ৯ থেকে ১৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত দেওয়া হয়। এই সময়ে মুরগির ডিম পাড়ার প্রস্তুতি চলে।
- ৩. লেয়ার বা ডিম পাড়া মুরগির রেশন: ১৭ সপ্তাহ বয়স থেকে ডিম পাড়া বন্ধ করা বা বাতিলের আগ পর্যন্ত এই রেশন দেওয়া হয়। এই খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম (ঝিনুকের গুঁড়া) থাকে, যা ডিমের খোসা গঠনে সাহায্য করে।
খাদ্য প্রয়োগের নিয়ম
সুষম খাদ্য তৈরি করার পর তা সঠিকভাবে মুরগিকে খাওয়াতে হবে:
- খাদ্যের আকার: ছোট বাচ্চার জন্য খাদ্য একেবারে মিহি গুঁড়া (Mash) হতে হবে। বড় মুরগির জন্য দানা বা বড়ি (Pellet) আকারের খাবার দেওয়া ভালো। এতে অপচয় কম হয়।
- পাত্রের ব্যবহার: খাবার কখনোই মাটিতে দেওয়া উচিত নয়। পরিষ্কার পাত্রে খাবার দিতে হবে।
- সময়: পাত্রে একবারে বেশি খাবার না দিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার অল্প অল্প করে খাবার দিতে হবে, যেন খাবার সতেজ থাকে।
বিশুদ্ধ পানির গুরুত্ব
খাদ্যের পাশাপাশি মুরগির জন্য পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত জরুরি।
- মুরগি সাধারণত ১ কেজি খাবার খেলে তার দ্বিগুণ, অর্থাৎ ২ লিটার পানি পান করে।
- গরমকালে পানির চাহিদা আরও বেড়ে যায়।
- পানির পাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
- মুরগির কোনো রোগ হলে অনেক সময় পানির সাথে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়।
মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন
১. প্রশ্ন এখানে আসবে
ধন্যবাদ
অধ্যায় ২: পরিচ্ছেদ ৭ এর সমাপ্তি
সুষম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করলেই পোল্ট্রি খামার লাভজনক হবে।
১ / ৯
কিবোর্ড ⬅️ ➡️