পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মাছের খাদ্য
কৃষিশিক্ষা
দ্বিতীয় অধ্যায়: কৃষি উপকরণ
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মাছের খাদ্য
মাছের খাদ্যের প্রকারভেদ
মাছ বেঁচে থাকার, বৃদ্ধি পাওয়ার এবং বংশবৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান গ্রহণ করে তাকে মাছের খাদ্য বলে।
উৎস অনুযায়ী মাছের খাদ্যকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়:
- ১. প্রাকৃতিক খাদ্য (Natural Feed)
- ২. সম্পূরক খাদ্য (Supplementary Feed)
খাদ্যের গুরুত্ব
লাভজনকভাবে মাছ চাষ করতে হলে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি অবশ্যই সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে।
১. প্রাকৃতিক খাদ্য (Natural Feed)
পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে বা সার প্রয়োগের ফলে যেসব খাদ্য তৈরি হয়, সেগুলোই প্রাকৃতিক খাদ্য। এগুলো প্রধানত দুই প্রকার:
- ফাইটোপ্লাংকটন (উদ্ভিদকণা): পুকুরের পানির সবুজ রঙের জন্য এরা দায়ী। উদাহরণ: শ্যাওলা, ডায়াটম, ভলভক্স ইত্যাদি।
- জুপ্লাংকটন (প্রাণিকণা): এরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী। উদাহরণ: ড্যাফনিয়া, সাইক্লপস, রটিফার ইত্যাদি।
এছাড়াও ক্ষুদ্র জলজ পোকা, ক্ষুদিপানা, টোপাপানা, শামুক-ঝিনুকের মাংস ইত্যাদি প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে পরিচিত।
২. সম্পূরক খাদ্য (Supplementary Feed)
পুকুরে মাছের সংখ্যা বেশি হলে শুধু প্রাকৃতিক খাদ্যে মাছের পেট ভরে না। তখন বাইরে থেকে যে অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ করা হয়, তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
উপাদানসমূহ:
- চালের কুঁড়া, গমের ভুসি
- সরিষার খৈল, তিলের খৈল
- ফিশমিল (মাছের গুঁড়া), শুঁটকির গুঁড়া
- রক্তের গুঁড়া, হাড়ের গুঁড়া ইত্যাদি।
সম্পূরক খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা
মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়:
- দ্রুত বৃদ্ধি: মাছের দৈহিক বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়।
- অধিক ফলন: অল্প সময়ে বড় আকারের মাছ পাওয়া যায়, ফলে উৎপাদন ও মুনাফা বাড়ে।
- রোগ প্রতিরোধ: পুষ্টিকর খাবার পেলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং মৃত্যুহার কমে যায়।
- খাদ্যাভাব দূরীকরণ: পুকুরে মাছের ঘনত্ব বেশি থাকলেও খাদ্যের অভাব হয় না।
খাদ্য প্রয়োগের নিয়ম
সম্পূরক খাদ্য সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে পুকুরের পানি নষ্ট হতে পারে।
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
- পরিমাণ: পুকুরে থাকা মোট মাছের ওজনের ৩-৫% হারে প্রতিদিন খাদ্য দিতে হয়।
- সময়: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে (সকালে ও বিকেলে ২ ভাগ করে) খাবার দিতে হবে।
- স্থান: পুকুরের নির্দিষ্ট একটি বা দুটি জায়গায় খাবার দিতে হবে। এতে খাদ্যের অপচয় কম হয়। খৈল ব্যবহার করলে তা আগে পানিতে ভিজিয়ে নরম করে নিতে হবে।
এফসিআর (FCR) কী?
FCR এর পূর্ণরূপ হলো Food Conversion Ratio (খাদ্য রূপান্তর হার)।
মাছ কতটুকু খাবার খেয়ে কতটুকু দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়েছে, তার অনুপাতই হলো FCR। এর মাধ্যমে খাদ্যের মান যাচাই করা হয়।
FCR = প্রদানকৃত খাদ্যের পরিমাণ ÷ দৈহিক বৃদ্ধি
উদাহরণ: যদি কোনো পুকুরে ২০০০ কেজি খাবার প্রয়োগ করে মাছের মোট ওজন ১০০০ কেজি বাড়ে, তবে FCR হবে (২০০০ ÷ ১০০০) = ২।
নোট: FCR এর মান যত কম হবে, খাদ্যের গুণগত মান তত ভালো বলে ধরা হয়।
মূল্যায়ন: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরে ক্লিক করুন
ধন্যবাদ
অধ্যায় ২: পরিচ্ছেদ ৫ এর সমাপ্তি
উন্নত মানের খাদ্যই মাছের লাভজনক চাষের মূল চাবিকাঠি।